রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন
পাইলটের ইচ্ছাকৃত ভুলে লন্ডনগামী বিমানের হতাহতের তদন্ত চলছে।
অনলাইন ডেস্ক
ভারতের আহমেদাবাদে গত মাসে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানের দুর্ঘটনার তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। সম্প্রতি ব্ল্যাক বক্স রেকর্ডিংয়ের রহস্যময় কথোপকথন বিশ্লেষণে পাইলটের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই তথ্য সত্য হলে, তদন্তে নতুন মোড় আসতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লাইটের ক্যাপ্টেন ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ করে দিয়েছিলেন। ব্ল্যাক বক্সের রেকর্ডিং ও তদন্ত রিপোর্ট থেকে এই তথ্য উদঘাটিত হয়েছে।
দুর্ঘটনার কয়েক মুহূর্ত আগে ককপিটে পাইলটদের কথোপকথন বিশ্লেষণ করেছেন তদন্তকারীরা। দেখা গেছে, ক্যাপ্টেন ইঞ্জিনের জ্বালানি প্রবাহ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং অন্য পাইলটরা সমস্যার সমাধান করার সুযোগ পাননি। এর আগেই ঘটে বিপর্যয়।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের উড্ডয়নের সঙ্গে সঙ্গে ফার্স্ট অফিসার ক্লাইভ কুন্ডার উদ্বিগ্ন হয়ে ক্যাপ্টেন সুমিত সাবারওয়ালের কাছে প্রশ্ন করেন, কেন জ্বালানি কাটঅফ সুইচ বন্ধ করা হলো। ক্যাপ্টেন ছিলেন শান্ত, কিন্তু কেন তিনি এই সুইচটি বন্ধ করলেন তা এখনও স্পষ্ট নয়।
তদন্তকারীরা এখনো নিশ্চিত নন, এটি ইচ্ছাকৃত নাকি দুর্ঘটনাবশত ঘটেছে। তদন্ত চলছে এবং ইচ্ছাকৃত হলে বিষয়টি অন্য দিক নিতে পারে।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, উড্ডয়নের মাত্র তিন সেকেন্ডের মধ্যে বিমানের ইঞ্জিনের জ্বালানি কাটঅফ সুইচ বন্ধ হয়ে যায়, যা ইঞ্জিন বন্ধ করে দেয়। দ্রুত গতি কমে যাওয়ার পর বিমান বিধ্বস্ত হয় এবং ২৬০ জন প্রাণ হারান।
সাধারণত জ্বালানি কাটঅফ সুইচ গন্তব্য পৌঁছানোর আগে অথবা জরুরি পরিস্থিতিতে বন্ধ করা হয়। ওই ফ্লাইটে কি এমন জরুরি অবস্থা ছিল তা স্পষ্ট নয়।
উড়োজাহাজ নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জন কক্স বলেছেন, পাইলটের পক্ষে ভুলবশত এই সুইচটি বন্ধ করা প্রায় অসম্ভব। এটি সহজেই সরানো যায় না এবং কাটঅফ হলে ইঞ্জিন সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায়।